নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙেন, তাদের হৃদ্রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি যারা নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙেন না তাদের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙার সঙ্গে সব ধরনের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৪ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকেরা প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গবেষণা পর্যালোচনা করার পর নয়টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এসব গবেষণায় ৪ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের গড়ে ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে সিঁড়ি ভাঙার অভ্যাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙেন এমন মানুষের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন গুরুতর হৃদ্রোগের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ছয় তলা সিঁড়ি ভাঙা হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, অল্প পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রমও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই প্রতিদিন কয়েক তলা সিঁড়ি ভাঙতেই হবে—এমন নয়।
দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কাজের মধ্যেই সিঁড়ি ব্যবহার করা শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সহজ একটি উপায় হতে পারে। এর জন্য আলাদাভাবে ব্যায়ামের সময় বের করারও প্রয়োজন হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঁড়ি ভাঙা সহজলভ্য ও কম খরচের শারীরিক কর্মকাণ্ড, যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজেই যুক্ত করা যায়।
তবে গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় সিঁড়ি ভাঙার সঙ্গে কম মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, সিঁড়ি ভাঙার কারণেই মৃত্যুঝুঁকি কমে—এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
তথ্যসুত্রঃ বিবিসি অনলাইন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন