কম বাজেটের আইফোন কেমন হলো

আইফোনের দামের জন্য যারা এর ধারে কাছে ঘেঁষতেন না, তাদের জন্য অ্যাপল নিয়ে এসেছে বাজেটেড ফোন আইফোন এসই ২০২০। এসই সিরিজ মূলত কম দামের ফোনই। যদিও ৩৯৯ ডলার বা প্রায় ৩৪ হাজার টাকা আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে অনেকের কাছে প্রিমিয়াম ফোনেরই বাজেট। কিন্তু বর্তমানে আইফোন মানেই লাখ টাকার ব্যাপার-স্যাপার, সে হিসেবে ৩৪ হাজারের ফোন তো কম দামেরই।

অনেক দিন ধরেই আসি আসি করছিল, কিন্তু নানা কারণে অ্যাপলের এই ফোন আসতে দেরি হচ্ছিল। অবশেষে এ মাসে অপেক্ষার পালা ঘুচিয়ে দেখা মেলে আইফোন এসই ২০২০ মডেলের ফোনটি। তিনটি কালারের ফোন যার মধ্যে সাদা, কালো আর প্রডাক্ট রেড রয়েছে। প্রডাক্ট রেড কালারটিই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই ফোনের বেজ প্রাইজ ৩৯৯ ডলার যেটার স্টোরেজ ৬৪ জিবি। তবে ১২৮ এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজের ফোনও আছে, তাদের দাম যথাক্রমে ৪৪৯ ডলার এবং ৫৪৯ ডলার।

আইফোন সিরিজের ৯ নম্বর ফোন বাজারে আসেনি, তাই অনেকে আনঅফিসিয়ালি এটাকেই আইফোন ৯ ধরে নিচ্ছে। কিছু কিছু টেক সাইটের রিভিউতে একে বলা হয়েছে, ‘কম দামে ফ্ল্যাগশিপ ফোনের স্বাদ’। এই ফোনের ভালো দিক হচ্ছে এর ক্যামেরা, যেটা অনেকটা লাখ টাকার ফোন আইফোন ১১ প্রো ফোনের ক্যামেরার ফিচারের সমতুল্য। যদিও এই ফোনে একটি করে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে একটি করে লেন্সেই। অর্থাৎ রিয়ার ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা ৭ মেগাপিক্সেল।

এই ফোনের চিপ ব্যবহার করা হয়েছে থার্ড জেনারেশন এ১৩ নিউরাল ইঞ্জিন, যা এই ফোনকে দিয়েছে প্রিমিয়াম টাচ। এর ক্যামেরার ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে ডেপথ পিকচার তুলতে পারে। তাছাড়া এই ফোন দিয়ে ফোরকে ভিডিও ধারণ করা যায়। এর ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে আইফোন ৮ এর মতোই, যা সারাদিনের ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। তাছাড়া এটায় ওয়্যারলেস চার্জার সুবিধা আছে। টাচ আইডি ফিংগারপ্রিন্ট সুবিধার পাশাপাশি এর অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে আইওএস ১৩।

মোদ্দা কথা বাজেটেড ফোন হলেও এর মাঝে ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ব্লেন্ড আছে। তবে এর ৪.৭ ইঞ্চির পর্দা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে এটা বাজেটেড ফোন, তাছাড়া এখন ব্যাজেললেস ফোনের জামানা, কিন্তু আইফোন এসই ২০২০ এর ব্যাজেল কিন্তু বেশ মোটাসোটা। আকারে ছোট এবং ব্যাজেলযুক্ত পর্দার বিরক্তিটুকু বাদ দিলে দুর্দান্ত ক্যামেরা ফিচার এবং আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে এই ফোন আপনার মন জয় করবেই। কারণ ৪.৭ ইঞ্চি পর্দার ছোটখাট ফোনটি এক হাতে চালানোর জন্য বেশ সাচ্ছন্দ্যময়। সে হিসেবে অনেকদিন পর আইফোন আবার বাজার মাত করতে পারে বলেই টেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন